Category: Piles Treatment
Published on 12 Sep, 2026
রেক্টাল হেমোরয়েডস বা পাইলস হলো মলদ্বার ও মলাশয়ের নিচের অংশের শিরা এবং আশপাশের সহায়ক টিস্যু ফুলে যাওয়ার একটি সাধারণ সমস্যা। বাংলায় এটি অর্শ নামেও পরিচিত। পাইলস হলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ব্যথা, চুলকানি, ফোলা, অস্বস্তি অথবা মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ডের মতো অংশ বেরিয়ে আসতে পারে।
সব ধরনের পাইলসের জন্য একই চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। রোগের ধরন, গ্রেড, উপসর্গ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে উপকার হতে পারে। তবে গুরুতর বা বারবার হওয়া সমস্যায় রাবার ব্যান্ড লাইগেশন, অন্যান্য কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি অথবা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
Hemorrhoids বা piles হলো মলদ্বারের চারপাশে অথবা মলাশয়ের নিচের অংশে অবস্থিত ফুলে যাওয়া শিরা ও টিস্যু। অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে পাইলসকে প্রধানত ইন্টারনাল পাইলস এবং এক্সটারনাল পাইলস—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
অনেকের পাইলস থাকলেও কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ব্যথা বা prolapse অর্থাৎ পাইলস বাইরে বেরিয়ে আসার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলেই সেটি পাইলস— এমন ধারণা করা ঠিক নয়। এনাল ফিশার, অন্ত্রের প্রদাহ, পলিপ এবং কোলন বা রেক্টামের অন্যান্য রোগেও রক্তপাত হতে পারে।
ইন্টারনাল পাইলস মলদ্বারের ভেতরে এবং মলাশয়ের নিচের অংশে তৈরি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত এটি বাইরে থেকে দেখা যায় না। মলত্যাগের সময় ব্যথা ছাড়া উজ্জ্বল লাল রক্তপাত ইন্টারনাল পাইলসের একটি পরিচিত লক্ষণ।
রোগের মাত্রা বাড়লে পাইলস মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। একে prolapsed hemorrhoid বলা হয়। তখন অস্বস্তি, ভেজাভাব, মিউকাস বা শ্লেষ্মা নিঃসরণ এবং পরিষ্কার করতে অসুবিধা হতে পারে।
এক্সটারনাল পাইলস মলদ্বারের চারপাশের ত্বকের নিচে তৈরি হয়। এতে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা অথবা মলদ্বারের পাশে শক্ত ও সংবেদনশীল গুটি দেখা দিতে পারে।
এক্সটারনাল পাইলসের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে থ্রম্বোসড হেমোরয়েড বলা হয়। এতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, শক্ত গুটি ও ফোলা দেখা দিতে পারে।
| বিষয় | ইন্টারনাল পাইলস | এক্সটারনাল পাইলস |
|---|---|---|
| অবস্থান | মলদ্বার ও মলাশয়ের নিচের অংশের ভেতরে | মলদ্বারের চারপাশের ত্বকের নিচে |
| ব্যথা | প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কম | ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা বেশি হতে পারে |
| রক্তপাত | মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে | আঘাত বা ঘর্ষণ হলে রক্তপাত হতে পারে |
| গুটি বা ফোলা | গ্রেড বাড়লে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে | মলদ্বারের পাশে গুটি বা ফোলা দেখা যেতে পারে |
ইন্টারনাল পাইলসকে সাধারণত prolapse বা বাইরে বেরিয়ে আসার মাত্রা অনুযায়ী চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়।
পাইলস মলদ্বারের ভেতরে থাকে এবং বাইরে বের হয় না। মলত্যাগের সময় রক্তপাত হতে পারে।
মলত্যাগের সময় পাইলস বাইরে বের হতে পারে, তবে পরে নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়।
পাইলস বাইরে বেরিয়ে আসে এবং সাধারণত হাত দিয়ে ভেতরে ঢোকাতে হয়। রক্তপাত ও অস্বস্তি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
পাইলস সব সময় বাইরে থাকে এবং সাধারণত হাত দিয়ে ভেতরে ঢোকানো যায় না। এই পর্যায়ে ব্যথা, ফোলা, রক্তপাত বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ এবং মলদ্বার ও মলাশয়ের শিরার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ পাইলস তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যেসব বিষয় পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে:
রেক্টাল হেমোরয়েডস বা পাইলসের লক্ষণ এর ধরন ও গ্রেড অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
এসব লক্ষণ এনাল ফিশার, ফিস্টুলা, পলিপ, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ অথবা কোলন ও রেক্টামের অন্য রোগেও দেখা যেতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে পাইলস ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পাইলস নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, মলত্যাগের অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্যের ইতিহাস এবং রক্তপাত সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্নলিখিত পরীক্ষা করা হতে পারে:
বিশেষ করে নতুনভাবে রক্তপাত শুরু হলে, বারবার রক্তপাত হলে অথবা মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, গ্রেড, রক্তপাতের পরিমাণ, ব্যথা, prolapse এবং আগে নেওয়া চিকিৎসার ফলাফলের ওপর। সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না।
প্রাথমিক ও মৃদু পাইলসের ক্ষেত্রে চিকিৎসক সাধারণত যেসব পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন:
চিকিৎসক রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী stool softener, fiber supplement, ব্যথা কমানোর ওষুধ অথবা স্থানীয় cream ও suppository ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। নিজে থেকে দীর্ঘদিন steroid cream বা suppository ব্যবহার করা উচিত নয়।
রক্তপাত বা prolapse হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের ইন্টারনাল পাইলসের ক্ষেত্রে rubber band ligation করা যেতে পারে। এতে পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট রাবার ব্যান্ড বসিয়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করা হয়। পরে পাইলস সংকুচিত হয়ে ঝরে যায়। এটি কেবল প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে হয়।
নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে পাইলস সংকুচিত করার জন্য injection sclerotherapy, infrared coagulation অথবা অন্য office-based procedure ব্যবহার করা হতে পারে।
নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে লেজার বা অন্য minimally invasive technique ব্যবহার করে পাইলসের টিস্যু সংকুচিত করা বা রক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। প্রচলিত কেটে অপারেশনের তুলনায় কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কম রক্তপাত, কম postoperative discomfort এবং দ্রুত দৈনন্দিন কাজে ফেরার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে লেজার চিকিৎসা প্রত্যেক রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। পাইলসের গ্রেড, external component, thrombosis, prolapse এবং অন্যান্য রোগ আছে কি না—এসব বিবেচনা করে সার্জন চিকিৎসা নির্বাচন করেন। লেজার চিকিৎসার পরেও ব্যথা, রক্তপাত, ফোলা, সংক্রমণ অথবা রোগ পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না।
Primitive Health Care-এর piles treatment সম্পর্কে জানতে পাইলসের আধুনিক ও লেজার চিকিৎসা পেজটি দেখুন।
বড় external piles, গুরুতর prolapse, grade 3 বা grade 4 piles অথবা অন্য চিকিৎসায় উপকার না হলে hemorrhoidectomy প্রয়োজন হতে পারে। এতে সমস্যাযুক্ত পাইলসের টিস্যু অপসারণ করা হয়।
নির্দিষ্ট ধরনের prolapsed internal hemorrhoids-এর ক্ষেত্রে stapling পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে তা রোগীর পরীক্ষা ও সার্জনের মূল্যায়নের পর নির্ধারণ করতে হয়।
নিচের যেকোনো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
জরুরি সতর্কতা: প্রচুর রক্তপাত, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি অথবা অসহ্য ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন।
পাইলসের চিকিৎসার আগে এর ধরন, গ্রেড এবং রক্তপাতের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি। Primitive Health Care-এ রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে conservative treatment, minimally invasive procedure এবং প্রয়োজন অনুযায়ী surgical treatment সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাইলসের চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে অথবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে যোগাযোগ করুন ।
হ্যাঁ। Hemorrhoids-এর প্রচলিত নাম piles এবং বাংলায় এটি অর্শ নামে পরিচিত। এতে মলদ্বার বা মলাশয়ের নিচের অংশের শিরা ও সহায়ক টিস্যু ফুলে যায়।
না। অনেক রোগীর রক্তপাত নাও হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা বা বাইরে গুটি আসা প্রধান লক্ষণ হতে পারে।
Prolapse না হওয়া ইন্টারনাল পাইলসে সাধারণত ব্যথা কম থাকে। তবে পাইলস বাইরে বেরিয়ে এলে, ফুলে গেলে বা জটিলতা তৈরি হলে ব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলসে খাদ্যাভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। গুরুতর বা prolapsed piles-এর ক্ষেত্রে procedure বা surgery লাগতে পারে।
না। সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না। পাইলসের গ্রেড, রক্তপাত, ব্যথা এবং অন্য চিকিৎসার ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোনো surgical procedure-কে সবার জন্য সম্পূর্ণ ব্যথাহীন বলা যায় না। নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে লেজার পদ্ধতিতে postoperative discomfort তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে সাময়িক ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসার পরেও পাইলস পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত চাপ এবং কম ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সব সময় নয়। এনাল ফিশার, অন্ত্রের প্রদাহ, পলিপ এবং কোলন বা রেক্টামের অন্যান্য রোগেও রক্তপাত হতে পারে। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন।
এই নিবন্ধটি শুধু সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার উপসর্গ থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।